গরুর্থনীতি

লেখাটি সামহোয়্যার ইন ব্লগে প্রকাশিত

গরুর্থনীতিঃ একটা গরু প্রধানমন্ত্রী, আরেকটা গরু বিরোধী দলীয় নেত্রী
১৫ ই জুন, ২০০৮ দুপুর ১২:২৯

অর্থনীতির ঐতিহ্যবাহী ধরণটা এমন যে ধরুন আপনার দুটো গরু আছে; তার মধ্যে একটা বিক্রি করে দেবেন এবং একটা গাভী কিনবেন। ফলে গরুর উৎপাদন বাড়বে এবং অর্থনীতি স্ফীত হবে। সাম্যবাদে একটা গরু তার প্রতিবেশীকে দান করে দেয়া হয়। কমিউনিজমের সরকার দুটো গরুই নিয়ে নেয় এবং বিনিময়ে আপনাকে কিছু দুগ্ধ দেবে। ফেসিস্ট সরকার আপনার দুটো গরুই কেড়ে নিয়ে উল্টো দুধ আপনার কাছে বিক্রি করবে। নাৎসীজমে দুটো গরু ছিনিয়ে নিয়ে আপনাকে মেরে ফেলবে। ব্রুকরেটেসিজমে দুটো গরুকে কেড়ে নেয়া হয়। তারপরে একটাকে মেরে ফেলে। অন্যটা দুধ দিলেও সেগুলোকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে নষ্ট করে।

কিন্তু ভারতীয় অর্থনীতির ধরণটাই ভিন্ন। তাদের কারো দুটো গরু থাকলে, দুটোকেই তারা উপাসনা করে। পাকিস্থানীদের চিত্রটা আরো ভিন্ন। নিজেদের কোন গরু নাই কিন্তু দাবী করে যে ভারতীয়দের সব গরু আসলে তাদেরই। এরপরে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অর্থ-সাহায্য চাইবে, চীনের কাছে সামরিক সহায়তা, বৃটিশদের কাছে প্রযুক্তি, ফ্রান্সের কাছে সাবমেরিন, সুইজারল্যান্ডের কাছে ঋণ, রাশিয়ার কাছে ঔষধ এবং জাপানের কাছে ইকুপমেন্ট। এগুলো দিয়ে গরু কিনে বলবে তারা আসলে বৈশ্বিক নির্যাতনের শিকার।

আমেরিকানরা একটা গরু বিক্রি করে দেবে এবং অন্যটিকে দিয়ে চারটি গাভীর সমান দুধ উৎপাদনের চেষ্টা করবে। এরপর সেটা মরে গেলে চোখ গোলগোল করে তাকাবে। গরুর মৃত্যুর জন্য গরুবহুল একটা দেশকে দায়ী করে তাদেরকে মানবতার জন্য হুমকীসরূপ বলে আখ্যায়িত করবে। ফলে বিশ্বকে বাঁচানোর জন্য সেইদেশটির সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করবে এবং সব গরুগুলো দখলে নিয়ে নেবে।

কানাডার অর্থনীতি বেশ চমৎকার। তাদের দুটো গরুই গে।

নাইজেরিয়ান কারো যদি দুটো গরু থাকে তবে সে একটা খেয়ে ফেলে বলবে চুরি গেছে। তারপরে পুলিশকে খবর দেবে। পুলিশ একশ কিলোমিটারের মধ্যে সমস্ত মানুষকে গ্রেফতার করবে। নির্যাতন করে সবার নিকট থেকে একটা গরু আদায় করবে। চুরি যাওয়া গরুর মালিককে একটা গরু ফিরিয়ে দিয়ে পুলিশ নিজে একটা গরুর খামার চালু করবে।

রাশিয়ানরা দুটো গরু গুনে পাঁচটা আবিষ্কার করবে। পরেরবার গুনে পাবে ৪২টা। এরপরের বার গুনে ১৭টা। হতাশ হয়ে গোনা বাদ দিয়ে একটা ভোদকার বোতল খুলবে।

ফরাশীদের দুটো গরু থাকলে তৃতীয়টি অর্জনের জন্য হরতাল করবে। জার্মানরা তাদের দুটো গরুকে প্রযুক্তি খাটিয়ে একশ বছর বাঁচাবে। মাসে একবার খাবে আর অনবরত দুধ দিয়ে যাবে। তবে সবচেয়ে পাগলাটে হচ্ছে বৃটিশ অর্থনীতি। তাদের ঠিকই দুটো গরু আছে কিন্তু দুটোই ম্যাডকাউ। ইতালীরা জানে না যে তাদের গরু দুটো কোথায়। সুইজদের পাঁচ হাজার গরু থাকলেও একটাও নিজেদের নয়। কমিশনের বিনিময়ে অন্যের গরুর ভরনপোষন করে।

জাপানীরা তাদের দুটো গরুকে এমন ভাবে ডিজাইন করবে যেন সেগুলো স্বাভাবিক আকৃতির চেয়ে দশগুন ক্ষুদ্র হয়ে যায় এবং বিশগুন বেশী দুধ দেয়। এরপরে গরুর ছবি দিয়ে চমৎকার কার্টুন তৈরী করে কাউকিমন নাম দিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রচার করে। চাইনিজরা তাদের দুটো গরুর দুধদোয়ানোর জন্য তিনশ জন মানুষকে নিযুক্ত করে। তারপরে চাউর করে যে তাদের পুরো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা আছে। কেউ সত্যি সংখ্যাটা বললে তাকে জেলে চালান করে দেয়।

বৈশ্বিক অর্থনীতির তুলনায় বাংলাদেশের অর্থনীতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানে অর্থনীতির সাথে কেহই পরিচিত না। একটা গরুকে প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসিয়ে দেয় আর অন্যগরুটিকে বানায় বিরোধী দলের নেতা।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s