ফেসবুকে কাউকে অ্যাড না করা কিংবা ডিলিট করা…

সাধারণত ক্যাডেট অথবা আইইউটিয়ান হইলে চোখ বন্ধ কইরা অ্যাড রিকোয়েস্ট এক্সেপ্ট করি। তবে সবাই সেটা নাও করতে পারেন। এককালে ক্যাডেট বা আইইউটিয়ান দেখলেই অ্যাড রিকোয়েস্ট পাঠাইতাম। তবে একই প্রতিষ্ঠানে পড়া সবার মেন্টালিটি এক ধরনের হবার কোন কারণ নেই। সো কলড “ব্রাদারহুড” কিংবা “ফ্যাটারনিটি” ব্যাপারটা সবাই সমান ভাবে ফিল করেন না।

তবে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে উপলব্ধি হল, অনেকেই অ্যাড করতে চান না, বিরক্ত হন হয়তো। হয়তো উনার ফেসবুক অতিরিক্ত প্রাইভেট শুধু বন্ধু বা ক্লোজ ছাড়া কাউকে অ্যাড করেন না, কিংবা আমার সাথে জাস্ট মেন্টালিটি মিলে না বলে অ্যাড করতে চাচ্ছেন না, কিংবা উনি জাস্ট অ্যাড করতে চান না উইদাউট এনি রিজন! এন্ড হি ইজ নট বাউন্ড টু গিভ ইউ এ রিজন।

ছোট্ট করে তবু একটা কথা হল, জুনিয়ররা সেই সব সিনিয়রদেরই অ্যাড করতে চায় যাদের পছন্দ করে। আপনার কোন জুনিয়র ছোট ভাই আপনাকে পছন্দ করে বলেই অ্যাড করতে চায়। অপছন্দ করলে কিন্তু অ্যাড রিকোয়েস্ট পাঠাতো না। আরে সেলিব্রেটিরা (লিটারেলি সেলিব্রেটি কিংবা কলেজের/ভার্সিটির জনপ্রিয় বড় ভাই বইলা সেলিব্রেটি কিংবা হুদাই সেলিব্রেটি সিনড্রোমে ভোগা অতিরিক্ত প্রাউড ব্যক্তি) অনেক সময়ই ব্যাপারটা বুঝতে চান না।

সবারই পূর্ণ স্বাধীনতা আছে কাউকে অ্যাড না করার। নিজের ফেসবুক নিজের মত সাজানোর অধিকার আছে। আই রেসপেক্ট দ্যাট এন্ড এভরিওয়ান শুড ডু সো।

আপনাকে কেউ রিকোয়েস্ট পাঠালে সেটা যদি এক্সেপ্ট করতে ইচ্ছে না করে, দয়া করে তাকে সেটা জানিয়ে দিন। বি এ ম্যান এন্ড সে ইট টু হিজ ফেইস দ্যাট, ডুড, আই ডোন্ট লাইক ইউ, এন্ড স্টে অ্যাওয়ে ফ্রম মি। অথবা, ভাই, তোমার লগে মেন্টালিটি মিলে না, কিংবা আমার ফেসবুক ইজ টু প্রাইভেট, তাই অ্যাড করতে চাচ্ছি না, নো হার্ড ফিলিংস।
পোলাপান একটু মাইন্ড করলেও কিছুদিন পর খানিকটা ম্যাচিউর্ড হইলেই বুঝবে যে, দ্যাট ওয়াজ দা রাইট থিং টু ডু। এবং যদি কেউ আপনাকে এধরনের মেসেজ দিয়ে জানায়, তখন ইউ শুডন্ট গেট ম্যাড অ্যাট হিম।

তা না কইরা আমরা যেইটা করি, সেইটা হইলো,
১. ঝুলায়া রাখি, এক্সেপ্ট করি না, রিজেক্টও করি না, কিপিং দেম ইন লিম্বো।
২. এক্সেপ্ট করি, তারপর একদিন চুপচাপ রাতের আঁধারে আনফ্রেন্ড করে দিই।

দুইটাই আমার কাছে শিষ্টাচার বহির্ভূত কাজ বলে মনে হয়। ফেসবুক এথিক্স বলে কোন জিনিসের অস্তিত্ব আদৌ স্বীকার না করলেও আপনাকে এটা মানতেই হবে যে জিনিসটা নরমাল না।
এক নম্বরটা হল আপনার বাসার দরজায় কেউ নক করলো, আপনি তাকে চলে যেতেও বললেন না, আবার ভেতরে ঢুকতেও দিলেন না। আর দুই নম্বর হল, আপনি তাকে বাসায় ঢুকতে দিলেন, তারপর রাতে সে ঘুমালে তাকে আস্তে করে আপনার বাড়ির বাইরে রেখে এলেন।

বস, প্লিজ গ্রো আপ! কাউকে ভাল না লাগতেই পারে, সবার পোস্ট সবার পছন্দ হওয়ার কোন কারণ নাই। পোস্ট ভাল না লাগলে আনফলো করতে পারেন, অ্যাকুইন্টেন্স লিস্টে ফেলে দিতে পারেন, এক্সট্রিম কেসে আনফ্রেন্ড করে দিতে পারেন। জাস্ট ছোট্ট করে একটা মেসেজ দিয়ে জানিয়ে দিন, ছোট ভাই, তোমার/আপনার সাথে আমার মেন্টালিটি মিলে না, তোমার/আপনার পোস্ট দেখতে ইচ্ছে করে না, সুতরাং দূরে থাকাটাই শ্রেয়।
কিংবা, ভাই, আমার প্রোফাইলটা একটু বেশিই প্রাইভেট ক্লোজ ফ্রেন্ড আর আত্মীয় ছাড়া আর অ্যাড করি না আমি। তাই তোমাকে/আপনাকে অ্যাড করতে পারছি না, সরি। নো হার্ড ফিলিংস প্লিজ!

প্লিজ গ্রো সাম বলস এন্ড জাস্ট সে ইট টু হিজ ফেইস,

“ডুড, আই জাস্ট মেট ইউ,
এন্ড ইউ আর ক্রেইজি,
এন্ড আই হেইট ইওর গাটস,
সো স্টে অ্যাওয়ে ফ্রম মি।”
——-
Edit:
একটা জিনিস শুরুতে মাথায় ছিল, কিন্তু পুরাটা লিখতে গিয়া ভুইলা গেছিলাম, Fahim Rahman Ayon ভাইর প্রশ্নে মনে আসলো, তাই এডিট করলাম। পুরাটা গুছায়া লিখতেও আবার ভজঘট পাকায়া যাইতে পারে, তাই লাস্টে অ্যাড কইরা দিলাম।

প্রশ্ন হইলো: আচ্ছা, যারা কোন পরিচয় ছাড়াই বেল বাজায়, আর তুই আইহোল দিয়া দেইখাও কিছু বুঝিস না, এই রকম বেলায় কি করবি?

উত্তর: ধরেন, আমি আইইউটি 98 ব্যাচের এক বড় ভাইরে অ্যাড করতে চাইতেছি, তার আমারে চেনার কোনই কারণ নাই। সেই ক্ষেত্রে আমার উচিত হইলো ধুম কইরা ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট না পাঠায়া সাথে একটা মেসেজে নিজের পরিচয় দেওয়া যে ভাই, আমি ট্রিপলই জিরো ফাইভের, আপনার ফ্রেন্ড লিস্ট থাকতে পারলে আমি নিজেরে ধন্য মনে করতাম, কিংবা এই টাইপ কিছু।
কোন ইন্ট্রো ছাড়া অচেনা কেউ অ্যাড রিকোয়েস্ট পাঠাইলে সেইটারে স্প্যামিং হিসেবেই ধরুম আমি।

আর বন্ধু Fuad Hossain বড় সড় একটা ডাউট দিছে, সেইটাও অ্যাড করি।

– “আমি চাইনা অপরিচিত কেউ আমার বাসায় নক করুক। এখন কেউ নক করলে আমি কি তাকে ইগ্নোর করতে পারব না (যেহেতু সে হুদাই আমারে নক করসে, স্পেসিফিক কারন থাকলে আমারে জানাই নক করতে পারত) ? কেন আমারেই সব অপরিচিতরে ধরে ধরে বলতে হবে ,ভাই আমি অপরিচিত লোকজনরে ঘরে ঢুক্তে দেই না? তেমনি আমি এই জিনিসটা প্রোফাইলেও এইটা লিখে রাখতে চাইনা (দরজার বাইরে সাইনবোর্ড টাঙ্গানোর মত , সেইটা “মুই কি হনুরে” মনে হয় আমার কাছে)
What I want to say it, please let people live as they wish. Do we really need to judge others action as long as they aren’t directly affecting us ? While I myself cant say that I am perfect , who am I to say others are wrong?”

কিলিয়ার করি: অপরিচিত লোকদের জন্য উপরের কথাগুলি প্রযোজ্য হবে না। আমি যাকে চিনি না, জানিনা, তাকে অ্যাড করতে নাও পারি। কিন্তু ধর, তোর কলেজেরই ইমিডিয়েট জুনিয়র একটা ছেলে, যারে তুই দেখতে পারিস না, সেই ক্ষেত্রে অন্তত তারে তোর জানায়া দেওয়া উচিত, সেইটাই আমি কইতে চাইছি। আমি নিজেরে ক্লিয়ার করতে না পারার জন্য সরি।

কথা সত্যি, হু অ্যার উই টু জাজ আদার পিপল! কিন্তু ডিরেক্টলি অ্যাফেক্ট করা বা না করাটা এখন কিন্তু আর বাস্তব জগতে সীমাবদ্ধ নাই। ভার্চুয়াল জগতেও ছড়ায়া গেছে। ফর এক্মাম্পল, আমারে কেউ ডিলিট মারলে আমার খারাপ লাগে, মেজাজ খারাপ থাকে, তার সাথে কোন দিন দেখা হইলে অকওয়ার্ড ফিল করি। সেই জন্য সাথে সাথেই জানতে ইচ্ছা করে যে, আমার কোন কথায় বেয়াদবি হইলো, কিংবা কোন কথায় কষ্ট পাইলো, যাতে ভবিষ্যতে নিজেরে শুধরাইতে পারি। অন্তত এইটুকু কার্টেসি আশাকরি।
কেউ যদি না জানাইতে চায়, তাইলে আমার বলার কিছু নাই। তারে জাজ করাটাও মনে হয় ঠিক হবে না। তাকে ভুল বলার তো রাইট আরো নাই।

————-
কথাগুলি প্রথমে ঠিকমত বুঝাইতে পারি নাই বইলা ক্ষমাপ্রার্থী। মাইন্ড খাইয়েন না দয়া কইরা।

https://www.facebook.com/mcctuhin/posts/10152261158542661?notif_t=like

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s