বড় যদি হতে চাও, ছোট হও তবে

46_1ফেসবুকের একটা বাজে ব্যাপার হল যে কেউ যে কাউকে যে কোন গ্রুপে অ্যাড করে ফেলতে পারে। খুবই বাজে একটা ব্যাপার। একটু আগেই খেয়াল করলাম, আল ফাতিহ ইন্টারন্যাশনাল সাইবার ওয়ার্ল্ড নামের একটা গ্রুপে আমি আছি। কিভাবে কবে জয়েন করেছি কোন আইডিয়া নেই। গ্রুপের ভিতরে শুধুই হেইট স্পীচ। ইসলামের নামে একের পর এক ভারত বিরোধিতার পোস্ট, এর পরেই কুরআনের আয়াত কিংবা হাদীস নিয়া একটা পোস্ট, এর পরেই দা কুড়াল বল্লম নিয়ে রক্তের নদী বইয়ে দেবার আহ্বান (কার রক্ত বইয়ে দিতে চায়?), তার পরেই আবার প্রধানমন্ত্রীর মুখে জলবিয়োগের ফটোশপড ছবি।

রিপোর্ট করে গ্রুপটা বন্ধ করে দেয়া যেতে পারে গ্রুপটা, কিন্তু তাতে লাভ কি? আবার আরো দশটা গ্রুপ ক্রিয়েট হবে।

ব্যক্তিগতভাবে আমি নাস্তিক নই, আওয়ামীলীগ/বিএনপি/জামাত কাউকেই পছন্দ করি না, কিন্তু তাই বলে ধর্মের নামে একজন মানুষের মুখে জলবিয়োগের ছবি দেয়াটাকেও আমি ঘৃণা করি, তার উপর তিনি একজন মহিলা, তার উপর উনি দেশের প্রধানমন্ত্রী (তিনি ভাল না খারাপ সেটা জাজ করার মালিক আল্লাহ, আপনাকে সেই অধিকার কে দিয়েছে? আর উনি খারাপ হলেই কি আপনার অধিকার আছে উনার মুখে জলবিয়োগ করার)। একই ভাবে বলতে পারেন, চেতনার নাম দিয়ে রাজাকারের মুখে জলবিয়োগের ছবি দেয়াটাকেও ঘৃণা করি, আপনার সেইটা করার রাইট নাই, এই কথার জন্য আমারে ছাগু ট্যাগ দিতে পারেন, হু কেয়ার্স?)।

আর দা কুড়াল বল্লম নিয়ে কাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়তে বলতেছে? সবাই তো দেশেরই মানুষ। যদি আপনি বেরও হন, কাকে মারবেন? রাস্তায় আপনার সামনে যে পড়বে তাকে? নাকি হরতালের দিন আপনার মিছিলে যেই পুলিশ সদস্য বাধা দেবে তাকে? সেই পুলিশ তো মাসে আটশো টাকা বেতনে চাকরী করতেছে, তাকে কুপিয়ে মারলে কি ইসলাম কায়েম হবে, আর আপনি বেহেশতে চলে যাবেন? হোয়াট দা … , ম্যান! এত্তো সোজা? তার বাসায় তার যে ছেলেটা বাবার মুখ চেয়ে বসে আছে, যে মহিলাটা স্বামীর জন্য ভাত বেড়ে অপেক্ষা করছে, তাদের দায় দায়িত্ব কি আপনি নেবেন? খালি এই সরকার “নাচতেক” সরকার বলে ফেবুতে তাদের মুখে জলবিয়োগের পোস্ট দিবেন, গুগল ঘাইটা মিডল ইস্টের লাশের ছবি দিয়া কইবেন “নাচতেক” সরকারের হাতে শহীদ (!) হওয়া লাশের জন্য কয়টি লাইক আর দা কুড়াল নিয়ে কুপায়া মারার আহ্বান জানাবেন, আর পাক+ভারত+আসাম+বাংলাদেশ+ত্রিপুরা+আরো হাবিজাবি যা আসে সেইগুলা নিয়া অভিন্ন ইসলামী রাষ্ট্র গঠণের আজগুবি স্বপ্ন দেখবেন, আর মরার লগে লগে ডাইরেক্ট বেহেশত। বাহ বাহ! ব্যাপক!! ব্যাপক!!

ব্যক্তিগত ভাবে আমার মতামত হইলো, এখনকার যুগে দা কুড়াল দিয়া যুদ্ধ করার দিন চলে গেছে। এখন যুদ্ধ/ইনভেশন হয় ইনটেলেকচুয়ালি, ফিনান্সিয়ালি, ডিপ্লোম্যাটিক্যালি। আপনি ইসলাম কায়েম করতে চান, ভাল কথা, লজিক্যালি ইসলাম প্রিচ করেন, নাস্তিকদের কতল করার মাধ্যমে না, হেইট স্পীচ ছড়ায়াও না।

রাজা কৃষ্ণচন্দ্র/বাদশাহ হারুনুর রশীদ ডাইকা মাটিতে একটা দাগ দিয়া কইলেন, এই দাগটারে না কাইটা না মুইছা এই দাগটারে ছোট কইরা দেখাও দেখি। মন্ত্রীসভার সবাই ফেল মারল, অনন্ত জলিলের জিপির অ্যাডের স্টাইলে কইল, “রাজামশাই/জাঁহাপনা, এত অসম্ভব!” তখন গোপাল ভাঁড়/নাসিরুদ্দীন হোজ্জা সেই দাগটার পাশে আরেকটা অপেক্ষাকৃত বড় দাগ দিয়া দেখাইলেন, একটা দাগরে না কাইটা না মুইছাও তারে ছোট করা যায়।

তবে বাঙালি চেতনা ব্যবসায়ী কিংবা ধর্ম ব্যবসায়ী সবাই খুব চালাক, তারা আরেকজনের চেয়ে নিজেরে বড় হিসাবে দেখানোর জন্য আরেকজনের নামে হেইট স্পীচ/স্ক্যান্ডাল ছড়ায়া বেড়ায়, নিজে একটু ভাল কাজ কইরা তার চেয়ে বড় হবার কষ্টে যায় না। সম্ভবত সেই জন্যই এই গ্রুপটার লোকজন দা কুড়াল নিয়া “নাচতেক”দের কতল করার ডাক দিতেছে, নিজে নামাজ কালাম পইড়া/ভাল কাজ কইরা বড় হওয়া তো অনেক কাম, তার চাইতে আসেন, “নাচতেক” কতল কইরা জান্নাতের টিকিট কাইটা ফেলি।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s