ঢাকা-৮৬

সম্ভবত আশির দশকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিত বেকার যুবকেরা ট্যাক্সি চালাত। সেগুলোর নাম ছিল বিকল্প ট্যাক্সি। আমাদের বয়সী কিংবা সিনিয়রদের অনেকেরই হয়তো “ঢাকা-৮৬” নামের একটি সিনেমার কথা মনে পড়বে, যেখাবে বাপ্পারাজ একজন শিক্ষিত বেকার এবং নায়িকা রঞ্জিতা তারই প্যাসেঞ্জার, সেখান থেকেই প্রণয় এবং পরিণয়। সিনেমার স্মৃতিচারণ অবশ্য মূল উদ্দেশ্য না।

আগামী বছর সম্ভবত দেশে চলে আসতে হবে একেবারে। চাকরী বাকরী কেমনে কি করব ফিরে এসে এখনো বুঝতেছি না। খালি মাথায় অলটারনেটিভ চিন্তা ঘুরে। সুইডেন আমারে আর কিছু না শিখাইলেও আউট অফ দা বক্স চিন্তা করতে শিখাইছে। প্রবলেম হইলো, এখন আর একেবারেই ইন দা বক্স চিন্তা করতে পারি না। সবসময় মাথায় উল্টাপাল্টা ব্যতিক্রমী সলিউশন ঘুরে।

taxiএনিওয়ে, চিন্তা করতেছি বিকল্প ক্যাবের কনসেপ্টটা কেমনে বাতিল হয়া গেল? বেকার যুবকরা এখন কি টিউশনিতে অনেক টাকা কামায় যে গাড়ি চালানো ব্যাপারটা এখন লস প্রজেক্ট হিসেবে কনসিডার করে? হলে পলিটিক্স করলে কিংবা বাপের ম্যালা টাকা থাকলে সেইটা ভিন্ন ব্যাপার। কিন্তু আমাদের মত ধোবি কা কুত্তা টাইপ মিডল ক্লাসের পোলাপান কি করে?

এখন আশির দশক না ম্যান, ২০১৪ সাল, কিন্তু এখন তো অবস্থা আরো খারাপ। শুনছি পোলাপান চাকরি না পাইলে ৪০০০ – ৫০০০ টাকা দামের জব করে, যেইটার শর্ত হইলো সার্টিফিকেট আটকায়া তিন বছর চাকরী করতে হবে, সপ্তাহে ছয় দিন। তারপরে চাকরি কনফার্ম হবে। গল্পটা কমবেশি একই রকম সবার ক্ষেত্রেই। কারো হয়তো সার্টিফিকেট জমা রাখতে হয় না, কিন্তু অন্য কোন দিক থেকে বাঁশটা ঠিকই খেতে হয়।

এই হিসেবে ট্যাক্সি চালানোটা কি খুব অলাভজনক কিছু? রিকশা চালাইতে না হয় গতর খাটাইতে হয় (ইদানিংকালের মোটরযুক্ত ইলেকট্রিক রিকশাতে সেইটাও লাগে না যদিও) কিন্তু ট্যাক্সি চালাইতে প্রবলেম কি? ট্রাফিক পুলিশের চাঁদা, ঘুষ হাবিজাবি, ট্রাফিক জ্যাম, তেল খরচ, ট্যাক্সি মালিকের জমার টাকা ইত্যাদি বাদ দিয়ে দিনে ১০০০ টাকা কি থাকে না? তাইলেও তো মাসে ২২ হাজার টাকা হয় (সপ্তাহে দুই দিন অফ ডে ধরে)। আমি তাহলে কেন অন্য কোনখানে আমার সার্টিফিকেট জমা রেখে গাধার খাটুনি খাটব? সারাজীবন ধইরা চালাইতে বলতেছি না, যতদিন ভাল জব না পাবেন, ততদিন করলে প্রবলেম কি? আগ্রহীরা ট্যাক্সির বদলে সিএনজি বসিয়েও পড়তে পারেন।

যারা এইটা করতেছে তারা নিজেদের ক্ষতি তো করতেছেই, সেই সাথে এইগুলা কইরা নিজেদের প্রফেশনের স্যালারি স্ট্যান্ডার্ডও অনেক নিচে নামায়া আনতেছে। ২০০৬ সালে একজন ইঞ্জিনিয়ারের স্ট্যান্ডার্ড আস্কিং স্যালারি ছিল মিনিমাম ৩২ হাজার টাকা। এখন হিসেবে আরো বাড়া উচিত, কিন্তু সাপ্লাই ডিমান্ড রুল, ইনফ্লেশন এবং কম্পিটিশনের হিসেবে সেইটা এখন আরো অনেক কম।

২০১৪ সালে যখন কোন গ্র্যাজুয়েটরে সার্টিফিকেট জমা রাইখা ৫০০০ টাকা বেতনের গোলামী (চাকরি না, এইটা গোলামী বা দাসত্ব, খালি চাবুকটা মারে না শুধু) করতে দেখি, ওর জন্য তো খারাপ লাগেই, সেই সাথে সামনে বছর দেশে ফেরত আইসা নিজে কি করুম, সেইটা চিন্তা কইরাও ভয় লাগে। oh wait…..ট্যাক্সি চালামু।

https://www.facebook.com/mcctuhin/posts/10152588842647661

 

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s