এত্তো এত্তো লিনাক্স ডিস্ট্রো লইয়া আমরা কি করিব?

মনে করেন আপনেরে পুরা একটা বাড়ি তৈরি করার জন্য যা যা লাগে তার সবই দেয়া হইলো পুরাপুরি ফ্রি। জমি, ইটা, খুটা, রং, ফার্নিচার, হাড়ি পাতিল এভরিথিং উইথ আনলিমিটেড সাপ্লাই।
কয়েকজন স্কিলড লোক (ধরি ৫-৭ জন) সেইগুলা দিয়া পুরা বাড়ি বানায়া রেডি কইরা সবাইরে ফ্রিতে বিলায়া বেড়াইতেছে। সবগুলা বাড়িই শুরুতে একই জিনিস দিয়া সাজানো থাকে, সবগুলা বাড়ির দেয়ালের রং ও একই। কিন্তু আপনার পূর্ণ স্বাধীনতা আছে কোন ফার্নিচার ভাল না লাগলে ফালায়া দিয়া আরেকটা নিয়ে আসার। ফর এক্সাম্পল আপনার ডাইনিং টেবিল গোল না হয়া চারকোনা হইলে ভাল হইতো মনে হইলে আপনি আগের ডাইনিং টেবিলটা ফালায়া দিয়া নতুন একটা চারকোনা ডাইনিং টেবিল পাইতে পারেন চাইলে পুরাপুরি ফ্রি তে, আবার কিনা আনতে চাইলে কিনতেও পারেন, আবার যদি মনে করেন যে না, আমি মাটিতে বইসাই খামু, তাইলে ডাইনিং টেবিল ছাড়াও থাকতে পারেন। যদি দেয়ালের কমলা রং ভাল না লাগে, তাইলে নীল, সবুজ, লাল যে কোন রং লাগায়া নিতে পারবেন, ফ্রি তেই।

23782926শুরুতে ব্যাপারটা ভালই চলতেছিল। গ্যাঞ্জাম দেখা দিল কিছু দিন পর। যারা এত্তদিন বাড়িটা কষ্ট কইরা বানায়া ফ্রি তে বিলাইতেছিল, তারা কিছু কোম্পানির সাথে চুক্তি কইরা নতুন কিছু জিনিস বাড়ির সাথে দিতে শুরু করল (অবশ্যই ফ্রি তে), যেইগুলা আসলে কেমনে বানানো হইছে সেইটা সেই কোম্পানি ছাড়া আর কেউ জানে না, কিংবা জানলেও বানাইতে পারে না। ফর এক্মাম্পল, তারা বাড়ির ভিতরে ডিশ কানেকশনও দেয়া শুরু করল। তার মানে এই না যে আপনারে সেইটার জন্য পে করতে হবে, যদি দেখতে চান পে করবেন, না চাইলে করবেন না যেমনে আছে সেমনেই রাইখা দিবেন না হয় ডিশের তার খুইলা ফালায়া দিবেন। কোন বাধা নাই। কেউ মাইন্ড করবে না। যারা ডিশ ব্যাপারটা পছন্দ করে না, তারা তার খুইলা ফালায়া দেওয়ার ঝামেলায় গেল ক্ষেইপা। তারা কমপ্লেইন শুরু করল, মিয়া ফাইজলামি পাইছেন? ডিশের মত একটা ফালতু জিনিস দিতেছেন বাড়ির সাথে? আর পুরা ব্যাপারটা হওয়ার কথা ছিল ফ্রি, এর মইধ্যে ডিশ তথা ট্যাকা পয়সার ঝামেলা ঢুকলো ক্যান? তারা চেইতা গিয়া সেই জমি, ইট, কাঠ, খুটা দিয়া নিজেরাই আরেকটা বাড়ি বানাইলো, পুরাপুরি আগেরটার মত, শুধু ডিশ কানেকশন ছাড়া। তারা সেই বাড়িগুলা সবাইরে বানায়া বানায়া ফ্রিতে বিলাইতে শুরু করল।

সেইটা দেইখা আরো কিছু লোক উৎসাহ পাইলো। তারা কইলো, এইসব বাড়ির দেয়াল কমলা রঙ করা। গু কালার। আমরা মানি না, মানবো না। তারাও চেইতা গিয়া সেই জমি, ইট, কাঠ, খুটা দিয়া নিজেরাই আরেকটা বাড়ি বানাইলো, পুরাপুরি আগেরটার মত, শুধু দেয়ালে কমলা রঙের বদলে সবুজ রং করা। সেইটাও তারা মাগনাই সবাইরে দিতে শুরু করল।
54687774এইবার আরেক পার্টি আইসা কইলো, দেখেন, আপনেরা দিছেন একতলা বাড়ি, বাইরে কাঠের বাউন্ডারি, কিন্তু আমার দরকার তিনতলা বাড়ি, গ্যারেজ প্লাস বাইরে উঁচা দেয়ালের বাউন্ডারি যাতে বাইরের কেউ না বুঝে ভিতরে কি হইতেছে। আপনেরা সবাইরেই এইরকম গ্যারেজ ওয়ালা উঁচা বাউন্ডারিওয়ালা বাড়ি দেন না ক্যান?
এইবার যারা ফ্রিতে মাইনসেরে বাড়ি বানায়া দিতেছিল, তারা গেল চেইতা। মিয়া ফাইজলামি পাইছেন? সবার তো তিনতলা বাড়ি দরকার নাই। সবার এত উঁচা বাউন্ডারিও দরকার নাই। তারাও গেল চেইতা, দশ ফিট উঁচা বাউন্ডারি দিয়া তারাও আরেকটা বাড়ি বানাইলো। এইভাবে চলতে চলতে প্রায় হাজার খানেক লোক বাড়ি, ফার্নিচার, ইত্যাদি বানানো শিখা গেল। কিন্তু তারা সবাই যার যার মত আলাদা আলাদা দলে ভাগ হয়া কাজ করে।

villaকিছু সুপার স্কিলড লোক ততদিনে অনেক কিছু শিখে গেছে। তারা কয়েকজন একজোট হইয়া সুবিশাল একটা বহুতল একটা অ্যাপার্টমেন্ট বানাইলো, উইথ অল দা মর্ডান অ্যাপ্লায়েন্সেস এন্ড ফার্নিচার্স। বানানোর টাইমে চারপাশে টিনের বেড়া দিয়া রাখছিল যার ফলে সেইগুলা কেমনে কি দিয়া বানাইছে সেইটা কাউরে জানতে দিল না, এবং সেই অত্যাধুনিক অ্যাপার্টমেন্টগুলা মানুষের কাছে বিক্রি করা শুরু করল। আস্তে আস্তে সেই অ্যাপার্টমেন্টগুলা এত্তোটাই জনপ্রিয় হইলো যে, মানুষ বাসা বাড়ি বলতে সেই অ্যাপার্টমেন্টকেই বুঝা শুরু করল।
দেখাদেখি আরো দুই তিনটা অ্যাপার্টমেন্ট কোম্পানিও বাজারে আইসা পড়লো। যেহেতু টাকা পয়সার ব্যাপার আছে, তাই বাজারের সবচেয়ে স্কিলড লোকগুলারে তারা হাই স্যালারি দিয়া হায়ার কইরা কাজ করাইতে শুরু করল, তাদের বাড়ির কোয়ালিটি দিন দিন উন্নত থেকে উন্নত হইতে লাগল।

এই কাহিনী সম্ভবত ১৯৭০ সাল থেকে শুরু, আজকে ২০১৪ সাল, এখনো চলতেছে।

প্রবলেম হইলো সেই অত্যাধুনিক অ্যাপার্টমেন্টগুলা বানাইতে মাত্র গুটিকয়েক লোক কাজ করলেও তারা সবাই অর্গানাইজড, একই জিনিস বানানোর জন্য সবাই একসাথে মিলামিশা কাজ করে। কিন্তু যারা নিজেদের পছন্দ মত বাড়ি বানাইয়া সবাইরে ফ্রি তেই বিলায়, তারা এক সাথে কাজ করে না, যদিও তাদের সংখ্যা অনেক অনেক বেশি। তারা অর্গানাইজড না। গুটি কয়েক লোক আসলেই বাড়ির স্ট্রাকচার কিংবা জিনিসগুলারে উন্নত করার জন্য কাজ করতেছে, কিন্তু বেশিরভাগই বইসা বইসা বসার ঘর নীল হবে না কি লাল সেই কাস্টমাইজেশনে ব্যস্ত। অথচ বাসার সেই ১৯৭০ সালের টিভি ফালায়া দিয়া যে একটা নতুন ফ্ল্যাট স্ক্রিন টিভি আনা দরকার, সেই দিকে কারও খেয়াল নাই।

linuxএইটাই হইলো বর্তমানে ইউনিক্স তথা লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশনগুলার অবস্থা। প্রত্যেকেই সেই একই জিনিস দিতেছে, খালি লুক এন্ড ফিল চেঞ্জ কইরা, কিংবা ভিতরের বিল্টইন সফটওয়্যার গুলা চেঞ্জ কইরা। কেউ ওপেন অফিস দিতেছে, কেউ লিব্রে অফিস দিতেছে। কেউ ভিএলসি প্লেয়ার দিতেছে, কেউ ক্লেমেন্টিন প্লেয়ার দিতেছে। কিন্তু সবই তো যেই লাউ সেই কদু। প্রতিটারই আলাদা আলাদা নাম। উবুন্টুর উপরে KDE ইন্সটল কইরা নাম দিলো কুবুন্টু, LXDE ইন্সটল কইরা নাম দিল লুবুন্টু, Cinnamon ইন্সটল কইরা নাম দিল লিনাক্স মিন্ট…
অথচ এখন পর্যন্ত কোন লিনাক্স ভার্সনেও একটা পাসওয়ার্ড দেওয়া ওয়ার্ড ফাইল ওপেন করা যায় না, কিংবা প্রজেক্টর কানেক্ট করতে আধা ঘন্টা চইলা যায়, কিংবা নতুন ডিভাইস কানেক্ট করলেই সিস্টেম মাঝে মাঝে ক্যাঁ কুঁ শুরু করে, এইগুলার দিকে কারো নজরই নাই। সবাই আছে নিজের নাম দিয়া একটা কইরা লিনাক্স রিলিজ করতে।

Linux-Distrosগত একমাসে প্রায় দশটার মত লিনাক্স ডিস্ট্রো দেখছি, সবাই প্রায় সেইম। আর প্রায় প্রতিমাসেই দুই একটা কইরা পুরাপুরি নতুন লিনাক্স বাইর হইতে দেখতেছি। ক্যান রে ভাই? পান থেকে চুন খসলেই  “fuck it, I am going to have my own distro.” এই মেন্টালিটি নিয়া বইসা থাকলে লাভ নাই।

স্পাইডারম্যান বলেছিলেন, উইথ গ্রেটা পাওয়ার, কামস গ্রেট রেসপন্সিবিলিটি। ফ্রি ওয়ালাদের হাতে এত্ত এত্ত পাওয়ার, লাখ লাখ ডেভেলপার, কোন  কর্পোরেট রেস্ট্রিকশন নাই,  কিন্তু রেসপন্সিবিলিটিটা হয়তো আরেকটু ভালভাবে পালন করা যাইতো যদি তারা সবাই অর্গানাইজড হইতো। ব্যাড লাক।
Their greatest power became their greatest enemy.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s