মেশিন চলবে … থুক্কু… অনুষ্ঠান চলবে…

গতকালকে সম্ভবত আর্মি স্টেডিয়ামে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের একটা অনুষ্ঠান হইছে, সারা রাত ভর উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত শুনার জন্য মানুষের জোশের সীমা নাই।
অন দা কনট্রারি, মাঝে মাঝে কিয়ামুল লাইল পড়ার জন্য মসজিদে একটা দুইটা মানুষ পাওয়া যায় না। ধরেন, সেইম ধরনের একটা আয়োজন হইলো, আমরা সারারাত মসজিদ বইসা কিয়ামুল লাইল পড়ুম, আর নফল নামায আর ছোট খাট আমল। সেইটার জন্য কি আপনি টিকিট কাইটা যাইতেন?

কাইউম চৌধুরীর শেষ কিছু মুহূর্ত
কাইউম চৌধুরীর শেষ কিছু মুহূর্ত

সেই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের শিল্পী কাইউম চৌধুরী স্টেজে উঠার সময় হার্ট ফেইল করে মারা গিয়েছেন। কিন্তু তাতে অনুষ্ঠান কিন্তু থেমে থাকে নি। হাজার হাজার টাকার টিকিট বিক্রি হয়েছে, আফটার অল কর্পোরেট ইভেন্ট, মানি ইনভলভড, তাই আনিসুজ্জামান নামের অধ্যাপক সাহেব বলেছেন, ” অনুষ্ঠান চলবে, জীবন যেভাবে চলে”।
ব্যাপারটা লজিক্যাল যে, ওই অনুষ্ঠানে প্রচুর বিদেশী পারফর্মাররা এসেছিল, অনুষ্ঠান সেদিনের জন্য স্থগিত করলে হয়তো তাদের আর পরে পাওয়া যেত না। কথা সত্য।
অথচ গতকাল এয়ার ক্র্যাশ ইনভেস্টিগেশনের একটা পর্বে দেখতেছিলাম, রাশিয়ান একটা হকি টিম (লোকোমোটিভ) এর একজন বাদে সবাই ন্যাশনাল হকি লীগের খেলায় যোগ দেয়ার সময় প্লেন ক্র্যাশে মারা যায়। খবরটা মাঠে পৌঁছানোর পর আয়োজকরা প্রয়াত খেলোয়াড়দের সম্মান দেখিয়ে, সেদিনের খেলাটা বন্ধ রাখেন। (https://www.youtube.com/watch?v=m2un8JyCgcM)

আবার দুই তিন দিন আগেই তো, শন অ্যাবোটের করা বল মাথায় লেগে ক্রিকেটার হিউজেস মারা গেলেন। সেদিন কিন্তু “খেলা চলবে, জীবন যেভাবে চলে” বলে খেলা চলে নি।

বাই দা ওয়ে, দূর্যোধন দূর্যোধন তার স্ট্যাটাসে রানা প্লাজার ঘটনার দিকে ইন্ডিকেট করেছেন, রানা প্লাজার ঘটনার দিন যেখানে সারাদেশ শোকে মূহ্যমান, সেদিন কিন্তু মেরিল প্রথম আলো পুরস্কার অনুষ্ঠানে ঠিকই আনন্দ নাচগান হয়েছিল।


Screenshot

সেই স্ট্যাটাসে আবার জনৈক শিল্পবোদ্ধা মহামনীষী কমেন্ট করেছেন,

Gulzar Hossain Ujjal প্রিয় দূর্যোধন ৥ রানা প্লাজার নিচে চাপা পড়া মানুষের মৃত্যু আর শিল্পী কাইয়ূম চৌধুরীর মৃত্যুকে এক করে যখন দেখেন তখন বোঝা যায় আপনার বোধের জায়গায় গন্ডগোল আছে। অনেক বড় গন্ডগোল।
Gulzar Hossain Ujjal প্রিয় দূর্যোধন ৥ রানা প্লাজার নিচে চাপা পড়া মানুষের মৃত্যু আর শিল্পী কাইয়ূম চৌধুরীর মৃত্যুকে এক করে যখন দেখেন তখন বোঝা যায় আপনার বোধের জায়গায় গন্ডগোল আছে। অনেক বড় গন্ডগোল।

সেটাই, খেটে খাওয়া মানুষের জীবনের দাম শিল্পীর জীবনের দামের চাইতে কম। তবে প্রথমালো কিংবা বেঙ্গলওয়ালাদের কাছে মৃত্যু কোন বিষয় না, সেইটা ২৫০০ গার্মেন্টস কর্মী হোক আর ১ জন কাইউম চৌধুরী হোক। মেশিন চলবে… থুক্কু… অনুষ্ঠান চলবে, জীবন যেভাবে চলে।

আল্লাহ আমাদের এইরকম মৃত্যু থেকে হেফাজত করুন। যেটায় দুনিয়া আর আখেরাত কোনটাতেই মঙ্গল নেই। বেঙ্গল ফাউন্ডেশন শুধু তাদের ফেবু পেইজে একটা শোকবার্তা দিয়েই খালাস।

“We deeply mourn the untimely demise of artist Qayyum Chowdhury. Bangladesh has lost one of its most irreplaceable creative icons.

Last respects to him will be paid tomorrow (1-12-2014) 10AM at Charukola Institute and then 11AM at National Shaheed Minar. After that his namaaz-e-janaza will be held at Dhaka University Mosque, which will be followed by his burial at Azimpur Graveyard.”

 

One Comment Add yours

  1. chudir vai says:

    হাজার হাজার টাকার টিকিট বিক্রি হয়েছে, আফটার অল কর্পোরেট ইভেন্ট, মানি ইনভলভড, তাই আনিসুজ্জামান নামের অধ্যাপক সাহেব বলেছেন, ” অনুষ্ঠান চলবে, জীবন যেভাবে চলে”।

    বেঙ্গল উচ্চাঙ্গ সংগীত উৎসব ছিলো ফ্রি। অনলাইনে বা অফলাইনে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়েছে। হাজার হাজার টেকার টিকেট বিক্রি হয় নাই। বোকাচোদারা তথ্য না জাইনায় এমনেই লাফায়। মূল সমস্যা যে কুরআন মাহফিলের বদলে সংগীত আয়োজন তাহা বুঝতে পারলাম। সেটা প্রমান করার জন্য বাঁশেরকেল্লা টাইপ ফাপরবাজি।

    Like

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s