গাছ ভুদাইয়ের রিসার্চ কথন

কলেজে লাঞ্চের এক ঘন্টা পর আমাদেরকে ঘাড় ধইরা ক্লাসরুমে নিয়া যাওয়া হইতো পড়ালেখা করানোর জন্য। ফার্স্ট প্রেপ নামের এই টাইমটাতে 95% পোলাপান হয় ঘুমাইতো, না হইলে বদমাইশি করত। বন্ধু আহসান উদ্দিন পল্লব সাহেব ফার্স্ট প্রেপে ফর্মের সবার কাছে ঘুইরা ঘুইরা সবার বাসার টেলিফোন আর মোবাইল নাম্বার লিস্ট করতেছে। গুড ইনিশিয়েটিভ। লিস্ট করা শেষে সে ক্যালকুলেটর হাতে নিয়া বইসা গেল।
একটু পরে সে বোর্ডে গিয়া বিশাল একটা সংখ্যা লেইখা অ্যানাউন্স করল, বয়েজ, সবার ফোন নাম্বার নিয়া গড় বাইর করলাম। এইটা আমাদের ব্যাচের ফোন নাম্বার ধইরা নিতে পারস। :V

এখন সাইবার ফরেনসিক্স এর উপরে একটা পেপার দেখলাম, টাইটেল Teaching Students to Steal, পাবলিশ হইছে SIGCSE ’11 নামের কনফারেন্সে। সবাই ইউনিভার্সিটি অফ টোয়েনটি এর।

ভাবলাম, গালভরা নাম দিছেন, ভাল ভার্সিটির লোকজন, নিশ্চয়ই ইন্টারেস্টিং হবে। ভিতরে চোখ বুলায়া তিনটা ফিগার পাইলাম মাত্র। একটা ফিগার দিছে একটা স্টুডেন্ট ওয়্যারকাটার দিয়া বোল্ট কাটতেছে সেইটার ছবি। আরেকটা ছবি দিছে একটা স্টুডেন্ট সকাল সাতটার সময় আইসা ক্লিনাররে বলতেছে সে তার এক্সেস কার্ড আনতে ভুইলা গেছে, তারে যেন ঢুকতে দেয়া হয়, সে একটা ল্যাপটপ নিতে আসছে, ক্লিনারের সাথে তার সে দাঁড়ায়া কথাবার্তা বলতেছে সেই ছবি। আরেকটা একটা তিন স্টেপের ফ্লোচার্ট।

পেপারটায় একগাদা ডাটা টেবিল। প্রথম দেখায় মনে হয় না জানি কত্ত বিশাল কাম কইরা ফেলছে। একটু থামলেই দেখা যাইতেছে যে, তারা একগাদা কোশ্চেনিয়ার দিছে লোকজনরে, চুরি করতে কেমন লাগছে, এইটা করলে কেমন ক্ষতি হইতে পারে শারীরিক ও মানসিকভাবে এইসব রেট করতে বলছে এট এ স্কেল অফ 1 টু 5, আর তারা সেই রেটিং গুলার অ্যাভারেজ আর স্ট্যান্ডার্ড ডেভিয়েশন বাইর কইরা সেইগুলা পেপারে দিয়া দিছে।

এখনো সময় আছে, ভাবতেছি, ব্যাচের সবার ফোন নাম্বার নিয়া এইবার ম্যাটল্যাবে প্লট করুম। x অক্ষে ক্যাডেট নাম্বার, y অক্ষে ফোন নাম্বার। সেইটার গাণিতিক গড়, জ্যামিতিক গড় আর তরঙ্গ গড় বাইর করুম। স্ট্যান্ডার্ড ডেভিয়েশন, থার্ড থেকে শুরু কইরা n তম মোমেন্ট বাইর করুম।

তারপরে সেইটারে পাবলিশ কইরা দিমু।

তারপরে ব্যাচের সবার ফোন নাম্বারের সাথে ক্যাডেট নাম্বারের কোন কোরিলেশন আছে কি নাই, সেইটার ভ্যালু কত বাইর করুম। সেইটাও পাবলিশ করবো শিওর, খালি লগে একটা ভাল ভার্সিটির নাম থাকলেই হবে। kth.se দেখলেই পাবলিশ কইরা দিবে আশা করি।

এর পরে দিছে চুরির রিস্ক আর বেনিফিট কি কি। রিস্ক: ইমোশনাল, ফিজিক্যাল এন্ড এথিকাল ড্যামেজ। বেনিফিট: সচেতনতা বাড়তেছে। পুরাডা পড়ার ত্যাল ছিল না আর।

হিংসার বিষয় এইটাই যে, এইটাও নাকি রিসার্চ, আর এই ধরনের রিসার্চের জন্যও মানুষ ফান্ডিং পাইতেছে, পেইড থিসিস হইতেছে।

আমি শিওরলি গাছ ভুদাই, এত্তবড় রিসার্চের মর্ম উপলব্ধি করতারি নাই। দেখেন আর কেউ পারেন কিনা।
পেপারের লিংক: https://mcctuhin.files.wordpress.com/2015/05/p21-dimkov.pdf

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s