প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি একাল সেকাল- পর্ব ১

লেখাটা মাসউদুল হক ভাইয়ের। বড় ভাইর অনুরোধে এখানে শেয়ার করা।
গ্রাম দেশে আগে নির্বাচন হলে বিভিন্ন প্রার্থী নামের পরে আব্দুর রহিম, এম এ, কুদ্দুস বিএসসি এইসব ডিগ্রি র কথা বলে অন্যের চেয়ে নিজের যোগ্যতা কতটা বড় তা প্রমানের চেষ্টা চলতো। এই চল এখনো অল্প বিস্তর আছে। কিন্তু নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে গিয়ে এই সব ডিগ্রির উপর ভর করে তেমন অগ্রসর হতে না পারায় আর পাড়ায় মহল্লায় এইসব ডিগ্রি সহজলভ্য হয়ে যাওয়ায় আজকাল রাজনিতির ময়দানে ডিগ্রি দেখিয়ে খুব বেশি অগ্রসর হওয়া যাচ্ছে না।

Schools Education - apple

মানুষ আর আগের যুগে নাই। দিন বদলে গেছে। এই কিছুদিন আগেও ব্যারিস্টার পদবি দেখলে মানুষ শ্রদ্ধায় নত হয়ে যেত। কারন তারা জান্তো না এই ডিগ্রি অর্জনের কৌশল !! এখন বুদ্ধিমান মানুষ উকিল নির্বাচনে ব্যরিস্টার ডিগ্রির চেয়ে অনেক সময় নাইট কলেজ থেকে পাস করা উকিলকেও অধিক গুরুত্ব দেয়? কারন সময় বদলে গেছে। এখন মানুষ খুঁজে পারফর্মার। আপনি রান্নার হাজার খানেক বই পড়লে আর টমি মিয়ার কাছ থেকে কোর্স করলে আপনার রান্না ভাল হবে কোন গ্যারান্টি কি আছে?

আমাদের যা মোট নলেজ তার কতটা অংশ প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে প্রাপ্ত? আবার প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে প্রাপ্ত নলেজের কতটা আমরা প্রয়োগ করতে পারি? বা প্রাতিষ্ঠানিক নলেজকে ব্যবহার করে কতজন নতুন তত্ত্ব আবিষ্কার করতে পেরেছি? পৃথিবীর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি প্রতিদিন যে পরিমান মানুষকে বি এ, বিএসসি; এমএ, এমএসসি, পিএইচডি ডিগ্রি দিচ্ছে তাতে প্রতি ঘন্টায় না হোক, প্রতিদিন ডজনখানেক মৌলিক তত্ত্ব, কিংবা নতুন নতুন আবিষ্কারের ঘটনা ঘটার কথা ছিল? বাস্তবে কি তা ঘটছে? আমাদের কথা বাদ দিলাম, উন্নত বিশ্ব যাদের বলি তারা কি উৎপাদনের সমান সৃষ্টিশীলতা উপহার দিতে পেরেছে?
প্রতিদিন হাজার হাজার বিএসসি পিএইচডি উৎপাদনের পরেও দেখি ৪০ বছর আগের বইয়ের সাথে বর্তমান শিশুতোষ বিজ্ঞানের বইয়ের তেমন কোন পার্থক্য নেই। এখনো মৌলিক উপাদান কেন প্রায় একই, গ্রহ নক্ষত্রের সংখ্যা কেন একই? এখনো কেন সামাজিক বিজ্ঞানের শিক্ষকরা- সেই পুরনো তত্ত্ব’র উপর ভর করে ছাত্রদের পড়িয়েই যাচ্ছেন?
কেউ যদি বলেন জ্ঞান বিজ্ঞানের অগ্রগতি হয়েছে তবে তার সাথে আমি দ্বিমত পোষণ করবো না। তবে কতটা? যে পরিমান গ্র্যাজুয়েট, মাস্টার্স আর পিএইচডি’র জন্ম হয়েছে তার তুলনায় নতুন তত্ত্ব কি খুবই নগণ্য না?
কারন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্বীকৃতি প্রদানের ক্ষমতা রাখে কিন্তু সৃজনশীলতা বিকাশের কিংবা ছাত্র কত্রিক জ্ঞান প্রয়োগের নিশ্চয়তা দিতে পারে না। তাই ডিগ্রি দেখিয়ে মানুষের উপর ক্ষমতা ফলাবেন, নেতা হয়ে যাবেন সেই দুরাশা না করাই উত্তম (চলমান)

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s