বিভক্তি ও বিশৃংখলা (Fragmentation & Entropy)

বিভক্তি জিনিসটা আমার সবচেয়ে অপছন্দের। শব্দটা প্রথম শুনছিলাম বাংলা ব্যাকরণ পড়ার সময়, কারও ও বিভক্তি নামের একটা চ্যাপ্টার ছিল কারক জিনিসটা কোন রকমে সূত্রে ফালায়া বোঝা যাইতো, কিন্তু বিভক্তির কোন মা বাপ নাই।
বিভক্তির ওপর অরুচি সেই থেকে এখন পর্যন্ত খালি বাড়তেই আছে, বাড়তেই আছে। সেইটার রূপটা খালি বদলাইছে। পাহাড়ি নাকি বাঙালি, বিম্পি নাকি লীগ, তাবলীগ না শিবির, সম্প্রতি SI নিয়া বিভক্তি।
মনে মনে ব্যাপারগুলা নিয়া ফ্রাস্ট্রেটেড বা হতাশ ছিলাম। আমাদের মাঝে এত বিভক্তি ক্যান? আমাদের মানে বাঙালিদের। হঠাত মনে হইলো এইটাই কো স্বাভাবিক।

পুরা পৃথিবী বিভক্ত। আরো অনেক বেশি বিভক্ত হইতেছে। একসময়ে অখন্ড মহাদেশ প্যানজিয়া (Pangaea) এখন সাতটা আলাদা মহাদেশ, কোনটা বিভাজন পানি দিয়া সুস্পষ্ট করা, কোনটার বিভাজন কাল্পনিক। এইগুলা আবার ছোট ছোট আরো বেশি বেশি ভাগে বিভক্ত। প্রতিটার আবার আলাদা আলাদা জাতীয়তা। ক্লাস নাইন টেনে জমিজমার ফ্র্যাগমেন্টেশনকে একটা নেগেটিভ জিনিস হিসাবে পড়ানো হইছিল। এইটাই কি স্বাভাবিক না? এক দাদার জমি চাচাদের মাঝে, তাদের জমি সন্তানদের মাঝে, আর সন্তানদের জমি বাড়ির জন্য এনাফ না হওয়ায় ভার্টিক্যাল এক্সপ্যানশন হইতেছে, যার নাম দিছি অ্যাপার্টমেন্ট। যেইটা এতটাই জনপ্রিয় যে যৌথ পরিবার ব্যাপারটা বর্তমান যুগের মেয়েদের জন্য একটা দু:স্বপ্নের নাম (এইটার জন্য ভারতীয় টিভি সিরিয়াল দায়ী, যৌথ পরিবার জিনিসটা মানেই যে কুটনামী আর যুদ্ধক্ষেত্র, বাড়ির সিন্দুকের চাবির দখল নিয়া পলিটিক্স, এইটা খুব সূক্ষ্ণভাবে গত দশ পনের বছরে মেয়েদের মাথায় ঢুকায়া দেয়া হইছে, যার ফলে এখন শ্বাশুড়ি বা ননদ মানেই একটা নেগেটিভ চরিত্র বলে আমাদের মাথায় ভেসে ওঠে)।

সাইন্টিফিকভাবে দেখলে এনট্রপি (Entropy) নামে একটা জিনিস আছে, যেইটার সহজ সংজ্ঞা হইলো বিশৃংখলতার পরিমাপ। কোন কিছুর এনট্রপি বাড়তেছে মানে হইলো জিনিসটার ভিতরের জিনিসপত্র আরো বেশি বিশৃংখল হইতেছে। মানে অবস্থা আরো ফ্র্যাগমেন্টেড হইতেছে। আর বিশৃংখল হইতেছে মানে কি? যেই জিনিসটারে আমরা কোন প্যাটার্নে ফালাইতে পারি না, সেইটারে আমরা নাম দিছি বিশৃংখল, অনেকে এটাকে দৈব বা Random ও বলতে পছন্দ করেন। কিন্তু তিতা সত্য হইলো আপনি জানেন না এইটা কোন প্যাটার্নে পড়ছে, তাই তারে বিশৃংখল ক্যাটাগরিতে ফালাইছে। আপনার অক্ষমতা, বিজ্ঞানের অক্ষমতা।
আরেকটু গভীরে গেলে বিশৃংখলা না বইলা আরো মাইক্রোস্কোপিক লেভেলে যদি নামেন, তাইলে দেখবেন যে ফ্র্যাগমেন্টেড বা বিভক্ত অংশ গুলার ভিতরে কিন্তু এখনো কিছুটা সুশৃংখলতা আছে। মনে করেন, একটা কাপ পিরিচের সেট, যেইটা ছয়টা কইরা কাপ পিরিচ আছে। সবাই ইউনাইটেড। একটু পরে সেইগুলা আলাদা আলাদা কইরা ডিস্ট্রিবিউটেড কইরা দিলেন, বা হারায়া গেল। তারমানে তারা আর একসাথে নাই, বরং বিশৃংখল ভাবে অবস্থান করতেছে। এইরকম বিশৃংখলভাবে থাকা একটা কাপ পিরিচের কথা চিন্তা করেন, তাদের মধ্যেকার যে অণু গুলা আছে, সেইগুলা কিন্তু সবগুলার একই প্যাটার্ন। তারা একলগেই আছে, বিচ্ছিন্ন হয় নাই। যদি আপনে আরো ফারদার বিভক্তি করতে চান, তাইলে অনুগুলারে ভাঙেন, পরমাণগুলারে ভাঙেন, সবগুলার ভিতরে কিন্তু সেই একই জিনিস পাবেন। এত কথা বলার মূল উদ্দেশ্য হল যেইটারে আসলে আমরা বিশৃংখলা বা এনট্রপি বলতেছি, সেইটা আসলে ফ্র্যাগমেন্টেশন বা বিভক্ত। যখন বিভক্তিটা এতটাই ছোট হয়া দাঁড়ায় যে সেইটার কোন সিগনিফিক্যান্স আমাদের কাছে থাকে না, তখন আমরা সেইটারে বিশৃংখল বইলা চালায়া দেই।

Fragmentation and Entropy

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s