ব্যর্থ শিক্ষক?

ভার্সিটি বন্ধ, তাই আজকে ধানমন্ডিতে আর মহাখালীতে মেকা অফিসে কিছু কাম সারার জন্য বাইর হইছিলাম, ১১ টার দিকে। পূরবীর মোড়ের জ্যাম দেইখা ফেরত আসছি ভয়ে। কিছু করার নাই, তাই সেলুনে ঢুকছিলাম। মোবাইল টিপার উপায় নাই, তাই চোখ বন্ধ কইরা চিন্তা করলাম সেই সময়টা। যথারীতি সেই কুচিন্তার ফল এই সুবিশাল গোবর। এড়ায়া যান ত্যাল না থাকলে। তেল বলতে টাইম/এনার্জি/ইন্টারেস্ট সবই বুঝানো হইছে।

************

এক ব্যাডায় রাস্তা দিয়া হাইট্টা যাইতেছিল, দেখল তার দশ ফিট সামনের বিল্ডিঙের তিন তলা থিকা একজন হুঁক কইরা টাইনা থুক কইরা সর্দি ফেলতেছে। সেই ব্যাডায় তখন ম্যাট্রিক্স ছবির মত স্লো মোশনে উইড়া গিয়া সেই হলুদ কফ-সর্দি নিজের গায়ে লাগায়া, উপ্রের দিকে তাকায়া কয়, ওই আমার গায়ে ছ্যাপ দিলি ক্যা?

ব্যর্থ শিক্ষক বিষয়ক একটা লেখা কয়েকদিন ধইরা ফেসবুকে ভাইরাল হইছে। নিজেরে সফল শিক্ষক মনে করি না। ব্যর্থও মনে করি না। মাঝামাঝি, সফলতা ব্যর্থতা দুইটা আছে। তবুও সেই ব্যাডার মত কইরা স্লো মোশনে “ব্যর্থ শিক্ষক” তকমাডা যদি নিজের গায়ে লাগাই, তাইলে তার প্রতিক্রিয়া কি হইতে পারে?
https://goo.gl/N1N5Ac

যদি পইড়া না থাকেন, তার সারমর্ম হইলো, সাগর রহমান নামের এক পোলার গার্জিয়ান আফতাব রহমান সাহেবরে তার ভার্সিটির টিচার ফোন দিয়া কইতেছে, আপনের পোলা দুই সাবজেক্টে ফেল, তাই পলিসি অনুযায়ী ভার্সিটি থিকা তারে বাইর কইরা দেয়া হইতেছে। পোলার বাপ উল্টা ফাঁপড় নিয়া কয়, পোলারে ট্যাকা দিয়া আপনেগো কাছে পাঠাইছি শিখাইতে, শিখাইতে পারেন না, দোষ আপনাদের, আমারে ফোন দিতেছেন ক্যান? শিক্ষক থতমত খাইলো, পোলার বাপে ফারদার ফাঁপড় নিয়া টিচারকে কয়, আপনের বাপের নাম্বার দ্যান, আপনার মত ব্যর্থ শিক্ষকের বাপরে আমি ফোন দিয়া দায়িত্বডা সারি।

যথারীতি, আমরা অনেকেই শেয়ারে শেয়ারে ফাডায়ালতাছি, শিক্ষক সমাজরে গাইলায়া উড়ায়ালতেছি।
************

কথা সত্য। কিন্তু এইটা ক্যাডেট কলেজ বা রেসিডেন্সিয়াল ইন্সটিটিউশনের জন্য খাটে। কিন্তু ভার্সিটি লেভেলের জন্য হইলে আমার আপত্তি আছে। ভার্সিটি লেভেলের ছাত্ররা ২৪/৭ শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে/নজরদারিতে থাকে না। অনেক টিচার আছে, যারা শিক্ষক নামের কলঙ্ক, প্রাইভেট না পড়লে নাম্বার কম দেয়, বছরে একটা ক্লাস নেয়, সারা দিন রাজনীতি আর দলবাজি কিংবা নিজের ভার্সিটিতে ঠিকমত ক্লাস না নিয়া প্রাইভেট ভার্সিটিতে খ্যাপের উপ্রে থাকে। এনাদের ক্ষেত্রে শিক্ষক শব্দটা ব্যবহার করতেই আমার আপত্তি আছে। কিন্তু বাকিদের ক্ষেত্রে চিত্রটা ভিন্ন।

ভার্সিটির শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে যতটুকু জানি, সেখানে একেবারে গোড়া থেকে পড়ানো শুরু করা হয়, এটা ধরে নিয়ে যে সে বিষয়ে ছাত্রের জ্ঞান একেবারে শূন্যের কোঠায়। যেমনঃ সার্কিট কোর্সে একেবারেই বেসিক জিনিস পরমাণু, ইলেকট্রন, চার্জ, ইত্যাদি সম্পর্কিত ধারণা থেকে শুরু করা হয় পড়ানো। তবে যেসব কোর্সে প্রিরিকুইজিট আছে, সেগুলোতে বেসিকের পাশাপাশি প্রিরিকুইজিট কোর্সে অলরেডি পড়ে আসা টপিকগুলোও রিক্যাপ করা হয়।

giant-chalkboard-in-classroom

এবার Blame The Students অ্যাপ্রোচে আসি। আমাদের দেশের ভার্সিটি লেভেলের প্রথম ক্লাসগুলোতে ছাত্রদের উপস্থিতি অনেক কম থাকে। পুরো সেকশনের বড়জোর ৮০% ছাত্রছাত্রী প্রথম ক্লাসে উপস্থিত থাকে। বাকিরা নানাবিধ কারণে প্রথম ক্লাসে আসে না। আর ভার্সিটির পড়ালেখার সিস্টেমটাই এমন যে কেউ যদি একটা ক্লাস মিস করে তাহলে পরের ক্লাসের টপিক তাকে বোঝানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। সেক্ষেত্রে তাকে কনসাল্টিং আওয়ারে ডেকে আগের ক্লাস ও পরের ক্লাসে পড়ানো টপিকগুলো আবার পড়ানো হয়, প্রাইভেট পড়ানোর মত করে। কিন্তু স্বাভাবিক ভাবেই, দুটো দেড়ঘন্টা করে মোট তিনঘন্টায় শিক্ষক যতটা ডিটেইলে ক্লাসে পড়িয়েছিলেন, তখন ততখানি ডিটেইলে শিক্ষক যেতে পারেন না। তবুও তিনটা চারটা পাঁচটা সিটিঙে তাকে ক্যাচ আপ করানোর মত ডিটেইলে শিক্ষক তাকে নিয়ে যেতে পারেন। পরের ক্লাসগুলোতে তার প্রতি স্পেশাল কেয়ার নিয়ে তাকে বাকিদের লেভেলে তুলে আনা সম্ভব হয়।

গ্রেট! এবার বাস্তবতা হল, খুব অল্প কিছু ছাত্রই আসে শিক্ষকের অফিসে পড়া বুঝতে। অনেককে দেখা যায় ক্লাসে না গিয়ে ভার্সিটির পেছনের টঙে বিড়ি ফুঁকতে, কিংবা গিটার হাতে আড্ডা দিতে। আমি বলছি না যে ভার্সিটি লাইফে এগুলোর দরকার নেই। কিন্তু অন্তত একবার তো আসা উচিত শিক্ষকের কাছে পড়া বুঝতে। আর ক্লাস করার পরেও অনেকের বোঝায় ঘাটতি থাকতে পারে। সেক্ষেত্রেও শিক্ষক আশা করেন যে তার কাছে কেউ আসবে। এই সেমিস্টারে আমার টোটাল 169 জন স্টুডেন্টের মধ্যে মাত্র দুইজন এসেছে আমার কাছে আমার কনসাল্টিং আওয়ারে আমার কাছে পড়া বুঝে নিতে।

অনেকে বলতে পারেন যে শিক্ষক ক্লাসে কেন ভাল মত পড়ান না যাতে শিক্ষকের কাছে আসা না লাগে পরে আবার পড়া বুঝে নিতে। উত্তর হল যুগ পাল্টেছে। Variable Input এর যুগ এখন। আগে শিক্ষক পুরো ক্লাসকে সেইম ইনপুট দিতেন, ভেরিয়েবল আউটপুট পেতেন। কেউ হত ফার্স্ট, কেউ হত লাস্ট। যারা ফেল করত, তারা শিক্ষার একটা সার্টেইন থ্রেসহোল্ড পার হতে পারে নি বলে ধরা হত।
আর এখনকার মাইন্ডসেট হল শিক্ষক ক্লাসের ম্যাক্সিমাম ছাত্রকে একটা সার্টেইন থ্রেসহোল্ড পার করানোর জন্য শিক্ষা দেবেন। যত বেশিজন স্টুডেন্ট কোর্সের সবগুলা আউটকাম অ্যাচিভ করতে পারে। সেজন্য শিক্ষককে ভেরিয়েবল ইনপুট দিতে হবে, কাউকে বেশি বোঝাতে হবে, কাউকে কম। কাউকে ক্লাসে বোঝালেই হয়, কাউকে ক্লাসের পর আলাদা ভাবে এক্সট্রা সিটিং দিয়ে, যেভাবেই হোক, শিক্ষক ক্লাসের সবাইকে একটা সার্টেইন থ্রেসহোল্ড পার করানোর চেষ্টা করবেন।

ফাঁকিবাজ ছাড়াও আরেক ধরনের “ছাএ” (ছাত্র নয়, ওরা “ছাএ”) আছে। মিডটার্ম বা ফাইনালের আগেরদিন এমন একজন নতুন ছাত্রের মুখের দেখা শিক্ষক পান যে কিনা একটা ক্লাসেও আসে নি। মাঝে মাঝে তাকে পরীক্ষা অ্যাটেন্ড করতেই দেয়া হয় না। কিন্তু কিছু স্পেশাল কেইসে শিক্ষক তখন পাহাড় ঠেলার সিদ্ধান্ত নেন। গত সেমিস্টারে আমার ক্লাসে এরকম একজন আসল, যার বাবা প্যারালাইজড, হসপিটালে আছেন, মা আর মামা অনেক কষ্টে সংসার চালাচ্ছেন, হাসপাতালে অসুস্থ বাবার সাথে থাকার জন্য সে ছাড়া আর কেউ নেই। চোখে পানি আসার মত ঘটনা, হেড অফ দা ডিপার্টমেন্টে লিখিত ভাবে অনুরোধ করে পাঠিয়েছেন, না পাঠালেও হত যদিও। এধরনের কেইসে সিলেবাস ট্রিম করে অ্যাবসোলুটলি নেসেসারি টপিকগুলো তাকে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু শিক্ষক তাকে তিনমাসের পড়া দুই/তিন দিনে গেলানোর চেষ্টা করলেও ছাত্র হজম করতে পারে না। ফলাফল, তিন দিন পর শিক্ষক যখন পরীক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন, তখন তাকে গোল্লা ছাড়া আর কিছু দেয়া যায় না। এবং যথারীতি সে ভার্সিটি থেকে ডিসমিস হয়ে যায়।

আরেক ধরনের ছাত্র আছে, যারা বাবা মার ইচ্ছায় কিন্তু নিজের অনিচ্ছায় অপছন্দের বিষয়টি পড়তে এসেছে। এদেরকে যদি পছন্দের বিষয়টি পড়তে বলা হয় এই বিষয়টি ছেড়ে, তাতেও তারা রাজি না। কারণ, চাকরির বাজার ভাল। কিংবা বাসার ডিসিশনের বিরুদ্ধে যাবার মত সাহস বা ক্ষমতা নেই।
আবার কয়েকজন আছে রেগুলার সবগুলো ক্লাস করেও ফেল। এরকম ছাত্রদের ক্ষেত্রে বলতে হয়, ভার্সিটি লেভেলের পড়াশোনা অনেকটাই এফোর্ট নির্ভর। এখানে মেধার চাইতে এফোর্টের গুরুত্ব বেশি। শুধু ক্লাস করে যদি কেউ সেটা বাসায় গিয়ে একবার অন্তত না দেখে তাহলে সেটা সম্পর্কে তার পূর্ণ ধারণা জন্মায় না বলে আমার বিশ্বাস। সবাই ইমাম বুখারী বা শেরে বাংলা ফজলুল হক না যে ফটোগ্রাফিক মেমোরি নিয়ে জন্মাইছে। বাসায় হোক বা ভার্সিটির ক্লাসের ফাঁকে, এফোর্ট দিতে হবে। সেটা না দিয়ে যদি সরাসরি টিচারকে ব্লেম করা হয়, যে স্যার ফেল করায়া দিছে, তাহলে এসব যুক্তি তর্ক অর্থহীন। ভার্সিটির টিচার ছাত্রের বাসায়/মেসে/হলে গিয়ে সে এফোর্ট দিচ্ছে কিনা, সেটা দেখে আসতে পারে না। ১৮+ বলে ছাত্রের স্বাধীনতাটুকুর প্রতিও সম্মান রাখতে হয়। বরং এরকম কোন ছাত্রকে দেখে যদি শিক্ষক বলেন যে, এই, এখানে আড্ডা না দিয়ে লাইব্রেরিতে গিয়ে পড়তে বসুন, তাহলে উল্টা শিক্ষককেই অপমান করে দিবে।

আইইউটির ছোট ভাই এবং কলিগ রানা এইরকম দুইজনকে পাস করানোর মিশনে নামছিল, নিজের অফিসরুমে বসায়া, লাইব্রেরিতে, এক্সট্রা ক্লাস নিয়া, বাংলায়, ইংরেজিতে, ইউটিউব দেখায়া, তার এইসব প্রাণান্তকর চেষ্টার খবর গার্জিয়ানদের কাছে পৌঁছায় না। আরেকজন কলিগ আছেন যিনি অপারেশনের দিন সকালে ক্লাস নিয়ে পরের দিনই আবার এসেছিলেন ভার্সিটিতে, বরং হেড স্যার উনাকে জোর করে বাসায় পাঠিয়ে দেন রেস্ট নেয়ার জন্য। নিজের ফ্রি টাইম নষ্ট করে এক্সট্রা পেইন নিয়ে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট লেভেলেই ছাত্রদেরকে মোটিভেট করে তাদের হাত দিয়ে রিসার্চ পেপার বের করে আনার মত মোটিভেশন দেয়া এইসব শিক্ষকেরা তবুও ব্যর্থ শিক্ষক, কারণ অল্প না পড়ানো এবং পেইন দেয়ার অপরাধে সেমিস্টার ইভ্যালুয়েশনে শিক্ষককে সবগুলো ক্যাটাগরিতে Poor ইভ্যালুয়েশন পাবেন।

এতকিছুর পরেও যেই গুটিকয়েক (১% এর ও কম) পোলাপানরে ডিসমিস করা হয় ভার্সিটি থেকে, তাদের জন্য ব্যর্থ শিক্ষকের তকমা গায়ে লাগায়া দিবেন, এইটা মানব না।

ইমোশনাল কার্ড আর খেলব না। একটাই ছিল, খেইলা ফেললাম এই মাত্র।

টিচারকে ব্লেম দেয়া যেতে পারে because of his lack of effort in and out of class, because of his lack of effort to arouse interest among his students.

ক্লাস কেমনে ইন্টারেস্টিং করতে হয়, তার দুইটা নমুনা দিলাম, দেইখা নিয়েন।

কিন্তু সরি, আমি ভার্সিটি প্রেমিসের বাইরে টঙে গিয়া বা তার বাসায় গিয়া তারে পড়তে বসতে বাধ্য করাইতে পারি না। তখন ছাত্রের কাছেই অপমানিত হবার চান্স থাকে। আর যদি ছাত্রী হয়, তাইলে মুখরোচক গুজবের ডালপালা সীমানা ছাড়াবে।

Blame the parents then? হ, জমিজমা/কিডনি বেইচা পোলারে ভার্সিটিতে পাঠাইছেন, জিন্দেগীতে খোঁজ নেন নাই পোলায় ক্লাসে ঠিকমত গেছে কিনা, নাকি বিড়ি বুড়ি খায়া টাইম পাস করতেছে। আমার খুব ঘনিষ্ঠ একজন বন্ধুর কাজিনের কথা জানি, যে কিনা ঢাকায় আইসা চার বছর ধইরা ভার্সিটিতে পড়তেছে, বাপ মা কোনদিন কোন খোঁজ খবর নেয় নাই। পোলায় শুধু ফার্স্ট ইয়ারটা ভার্সিটিতে গেছে, বাকি সেমিস্টারগুলার ফি দিয়া ইয়াবা খাইছে। ভার্সিটিতেও যায় নাই। বাপ মা রেগুলার যদি দৌড়ের উপরে না রাখে পোলায় তো বিগড়াইবোই, একুরিয়ামের মাছ সাগরে পড়লে যা হয়।

আমি কইতেছি না আমার ক্লাস সেইরকম ইন্টারেস্টিং, কনটেন্ট ভয়াবহ রকমের বোরিং। আমার ম্যাক্সিমাম ক্লাস বিকালে তিনটা থেকে সাড়ে চারটা, না হইলে দেড়টা থেকে তিনটা, না হইলে বিকাল সাড়ে চারটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা।
দেড়টার ক্লাস লাঞ্চের ইমিডিয়েট পরের ক্লাস: ভরা পেট, ঢুলুঢুলু চোখ।
তিনটার ক্লাস ছুটির ইমিডিয়েট আগের ক্লাস: এইতো খানিক পরেই ছুটি। উসখুস করতে থাকে ছুটির জন্য। আর না হলে সারা দিন ক্লাস করে টায়ার্ড। আর নিতে পারতেছে না। (রমজানে আরো ভয়ংকর!)
সাড়ে চারটা থেকে ছয়টার ক্লাস: পুরা ভার্সিটি খালি। অন্য কোন স্লট ফাঁকা না থাকায়, সর্বশেষ সেকশন যেটাকে সন্ধ্যার পর ক্লাস দেয়া। (ইফতারের আধা ঘন্টা আগের এই ক্লাসে ছাত্ররা সবগুলা জোম্বির মত ক্ষুধার্ত!)

তবুও চেষ্টা করি মাঝে মাঝে হাসাইতে, কিংবা হুদাই চেইতা চিল্লায়া মাঠ গরম করতে। মাঝে মাঝে সামনে নিয়া আসি কাউরে। শিক্ষক ক্লাসে জোক্স করবেন, গপ্পো করবেন, ক্লাসের মধ্যে সামনে পিছে হাঁটবেন, কথার টোন, ভয়েস লেভেল চেঞ্জ করবেন। মনোটোনাস হইলেই পুরা ক্লাস ঘুমায়া পড়বে।

যারা বিগত দুই বছরে ভার্সিটি লেভেলে শিক্ষকতা করেছেন, তারা হয়তো Outcome Based Education তথা IQAC এর Teaching Learning Quality Assurance ওয়ার্কশপগুলোর সুবাদে Flipped Classroom, Variable Input/Effort, Quality Assurance এইসব ফ্যান্সি শব্দের সাথে কমবেশি পরিচিত আছেন। বোরিং ক্লাস ইন্টারেস্টিং করার এই পার্টিকুলার বিষয়টা নিয়া কয়টা মিটিং হইছে মনে করতে পারেন?

মিরপুরের সেলুনগুলার নরসুন্দর সাহেবরা বেশিরভাগই বিহারী। হিন্দি বা উর্দুর সাথে বাংলা মিশায় কিসব বাতচিত করতেছিলেন, সেই দিকে কান না দিয়া কেচির কচ কচ শুনতে শুনতে মনে মনে সিমুলেশন চালাইতেছিলাম যে এই সাগর রহমান নামের “ছাএ” (আবারো বলছি, ছাত্র নয়, “ছাএ”) এর বাবা আফতাব রহমান সাহেবকে সাথে ফোনালাপের অপরপ্রান্তে যদি আমি থাকতাম, তবে “ব্যর্থ শিক্ষক” কথাটা উচ্চারণ করার জন্য তার সাথে আমার কাইজ্জা কোন পর্যায়ে যাইতে পারত!

 

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s